0 ৳ 0.00

Cart

No products in the cart.

দেশি বিড়ালের খাবার তালিকা ও খাওয়ানোর নিয়ম

Cat food chart - Desi

আমাদের আশেপাশে যে সাধারণ বিড়ালগুলো দেখা যায়, সেগুলোকে আমরা মূলত ‘দেশি বিড়াল’ বা লোকাল ক্যাট বলে থাকি। এরা অত্যন্ত চতুর, চঞ্চল এবং আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সম্পূর্ণ মানিয়ে নেওয়া এক একটি চমৎকার পোষা প্রাণী।

বর্তমানে বহু মানুষ ঘরের আদরের সদস্য হিসেবে দেশি বিড়াল পালন করছেন। তবে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে যে, দেশি বিড়ালের জন্য বিশেষ কোনো খাবারের প্রয়োজন নেই। ঘরের বেঁচে যাওয়া মাছ ভাত বা তরকারি দিলেই তারা সুস্থ থাকে। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।

বিদেশি পার্সিয়ান বা সিয়ামিজ বিড়ালের মতোই আমাদের দেশি বিড়ালেরও নির্দিষ্ট পুষ্টির চাহিদা রয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবে এরাও অপুষ্টি, পশম ঝরে পড়া, কিডনির রোগ এবং লিভারের সমস্যায় ভুগতে পারে। আপনার ঘরের আদরের দেশি বিড়ালটিকে কীভাবে সঠিক খাবার দিয়ে রোগমুক্ত, চঞ্চল এবং দীর্ঘায়ু করে তুলবেন, তা নিয়েই আমাদের আজকের এই বিস্তারিত গাইড।

এক নজরে মূল বিষয়: দেশি বিড়ালের জন্য সবচেয়ে উত্তম খাদ্য হলো ঘরে তৈরি লবণ ও তেল ছাড়া সেদ্ধ মাংস/মাছ এবং ভালো মানের রেডিমেড ক্যাট ফুডের (ড্রাই ও ওয়েট ফুড) একটি সুষম মিশ্রণ।বিড়াল মূলত মাংসাশী প্রাণী হওয়ায় তাদের খাদ্যে উচ্চ মাত্রার প্রাণিজ প্রোটিন ও টাউরিন থাকা আবশ্যক। ২ থেকে ১২ মাসের কিটেনকে দিনে ৪-৫ বার এবং ১ বছরের বেশি বয়সী অ্যাডাল্ট দেশি বিড়ালকে দিনে ২-৩ বার নির্দিষ্ট পরিমাপে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া উচিত।

Table of Contents:

ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলে উল্লেখিত প্রতিটি তথ্য অভিজ্ঞ পেট কেয়ার এক্সপার্ট এবং সাধারণ ভেটেরিনারি গাইডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে প্রতিটি বিড়ালের শারীরিক গঠন, ওজন এবং হজমশক্তি ভিন্ন হতে পারে। তাই আপনার বিড়ালের খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে বা সে অসুস্থ থাকলে একজন নিবন্ধিত ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

দেশি বিড়ালের প্রধান খাদ্য কী?

দেশি বিড়ালকে সুস্থ রাখতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে তাদের শরীরের প্রাকৃতিক চাহিদা কী। বিজ্ঞানের ভাষায় বিড়াল হলো “Obligate Carnivores” বা শতভাগ মাংসাশী প্রাণী। এর মানে হলো, মাংস বা প্রাণিজ প্রোটিন ছাড়া বিড়ালের শরীর কোনোভাবেই বাঁচতে পারে না। মানুষ বা কুকুরের মতো তারা সব ধরণের শর্করা বা শাকসবজি সহজে হজম করতে পারে না।

১. প্রাণিজ প্রোটিনের গুরুত্ব

দেশি বিড়ালের শক্তির মূল উৎস হলো প্রোটিন। মুরগির মাংস, গরুর মাংস (চর্বি ছাড়া) এবং মাছ থেকে তারা এই প্রোটিন পায়। প্রোটিন তাদের মাংসপেশি শক্ত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে দেশি বিড়ালের শরীরে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়।

২. টাউরিন (Taurine) এর প্রয়োজনীয়তা

টাউরিন হলো একটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড, যা বিড়ালের শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। এটি শুধুমাত্র প্রাণিজ মাংসে পাওয়া যায়। টাউরিনের অভাবে বিড়ালের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং হার্টের মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাই বাজার থেকে খাবার কেনার সময় তাতে টাউরিন আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি।

৩. ফ্যাট এবং ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড

অনেকেই মনে করেন চর্বি বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু পরিমিত সুস্থ চর্বি বা ফ্যাট তাদের শক্তির জোগান দেয়। বিশেষ করে ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি অ্যাসিড দেশি বিড়ালের গায়ের পশম বা লোম উজ্জ্বল রাখে এবং ত্বককে অ্যালার্জি ও ফাঙ্গাস থেকে রক্ষা করে।

Expert Opinion:

আমাদের দেশের লোকাল বা দেশি বিড়ালগুলোর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিদেশি বিড়ালের চেয়ে বেশি হলেও, তাদের লিভার ও কিডনি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত ভাত, রুটি বা কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার দেশি বিড়ালকে খাওয়ালে তাদের শরীরে ডায়াবেটিস এবং ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন) দেখা দেয়। তাই তাদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় অন্তত ৭০% প্রোটিন সমৃদ্ধ উপাদান রাখা উচিত।

দেশি বিড়ালের খাবারের তালিকা: ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবার

আপনি যদি বাজার থেকে দামী ক্যাট ফুড কিনতে না চান, তবে কোনো সমস্যা নেই। ঘরের তৈরি সাধারণ কিছু উপাদান সঠিক নিয়মে রান্না করে আপনি আপনার দেশি বিড়ালকে সম্পূর্ণ পুষ্টি দিতে পারেন। নিচে ঘরের তৈরি পুষ্টিকর খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:

১. তেল মশলা ছাড়া সেদ্ধ মুরগির মাংস (Chicken Breast)

মুরগির বুকের মাংস দেশি বিড়ালের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার। বাজার থেকে আনা মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে কোনো প্রকার তেল, লবণ, পেঁয়াজ বা হলুদ ছাড়া শুধু পানিতে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হয়ে গেলে হাত দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে বা ব্লেন্ড করে বিড়ালকে খেতে দিন। মুরগির চামড়া বা অতিরিক্ত চর্বি বাদ দেওয়া ভালো।

২. হাড় ছাড়া সেদ্ধ মাছ (Fish Recipe)

মাছ দেশি বিড়ালদের অত্যন্ত প্রিয়। আপনি রুই, কাতলা, পাঙ্গাস বা যেকোনো সামুদ্রিক মাছ খাওয়াতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, মাছটি অবশ্যই তেল মশলা ছাড়া সেদ্ধ হতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাওয়ানোর আগে মাছের প্রতিটি হাড় খুব ভালো করে বেছে নিতে হবে। হাড় বিড়ালের গলায় বা পেটে বিঁধে মারাত্মক রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।

৩. সেদ্ধ ডিমের কুসুম

ডিমের কুসুম হলো প্রোটিন এবং বায়োটিনের পাওয়ার হাউস। এটি বিড়ালের পশম গজাতে এবং ত্বক সুন্দর করতে জাদুর মতো কাজ করে। সপ্তাহে ১ বা ২টি ডিমের কুসুম সেদ্ধ করে ম্যাশ বা গুঁড়ো করে বিড়ালের খাবারের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন। তবে কাঁচা ডিম বা ডিমের সাদা অংশ ভুলেও খাওয়াবেন না।

৪. নিরাপদ সবজির ব্যবহার

যদিও বিড়াল মাংসাশী, তবুও সামান্য পরিমাণে কিছু সবজি তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। আপনি সামান্য মিষ্টি কুমড়ো সেদ্ধ, গাজর সেদ্ধ বা আলু সেদ্ধ মাংসের সাথে ভালো করে চটকে দিতে পারেন। এটি খাবারে ফাইবারের যোগান দেয়।

বিড়ালের জন্য স্পেশাল হোমমেড চিকেন সুপ রেসিপি চার্ট

আপনার দেশি বিড়ালের মুখের রুচি বাড়াতে এবং শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে সপ্তাহে ৩ দিন নিচের এই বিশেষ সুপটি বানিয়ে দিতে পারেন:

ধাপকরণীয় কাজকেন এটি উপকারী?
ধাপ ১১০০ গ্রাম হাড় ছাড়া মুরগির মাংসের সাথে সামান্য গাজরের টুকরো নিন।ভিটামিন ও প্রোটিনের পারফেক্ট কম্বিনেশন।
ধাপ ২২ কাপ পানিতে কোনো উপাদান (নুন/তেল) ছাড়া ২০ মিনিট সেদ্ধ করুন।মাংসের সব পুষ্টি পানির সাথে মিশে সুপ তৈরি করে।
ধাপ ৩মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে ঠাণ্ডা করে মিক্সারে হালকা ব্লেন্ড করে নিন।তরল বা সেমি লিকুইড খাবার বিড়াল খুব সহজে চাটতে পারে।

দেশি বিড়ালকে কি ক্যাট ফুড বা ড্রাই ফুড খাওয়ানো যাবে?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, “দেশি বিড়াল তো রাস্তার পরিবেশেও বড় হয়, ওদের কি আসলেই বাজারের কেনা ক্যাট ফুড দেওয়া যাবে?” উত্তর হলো হ্যাঁ, অবশ্যই যাবে এবং এটি তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

বাজারের তৈরি ভালো মানের ক্যাট ফুডগুলোতে বিড়ালের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল এবং ক্যালসিয়ামের সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হয়, যা সাধারণ ঘরের খাবারে অনেক সময় মিস হয়ে যায়।

ড্রাই ফুড (Dry Food) এর উপকারিতা:

ড্রাই ফুড বা শুকনো দানাদার খাবার দেশি বিড়ালের দাঁত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এটি খাওয়ালে বিড়ালের মল বা পটির দুর্গন্ধ অনেক কমে যায়। এছাড়া এটি দীর্ঘক্ষণ বাটিতে রেখে দেওয়া যায় বলে কর্মজীবী মানুষদের জন্য এটি ব্যবহার করা খুব সহজ।

ওয়েট ফুড (Wet Food) এর প্রয়োজনীয়তা:

দেশি বিড়ালরা প্রাকৃতিকভাবে খুব কম পানি পান করে। ওয়েট ফুড বা জেলি খাবারে প্রচুর পানি থাকে, যা তাদের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং প্রস্রাবের ইনফেকশন দূর করে।

বাজেট ফ্রেন্ডলি সেরা ক্যাট ফুড:

Best BD Deal থেকে দেশি বিড়ালের জন্য আপনি নিচের ক্যাট ফুড ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন:

১. স্মার্ট হার্ট (Smart Heart Cat Food): থাইল্যান্ডের এই ব্র্যান্ডটি দেশি বিড়ালের পশম পড়া রোধে চমৎকার কাজ করে।

২. টাইপেট (Taipet Premium Cat Food): এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং বিড়ালের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. জোই ক্যাট ফুড (Zoi Cat Food): কম বাজেটের মধ্যে এটি একটি কমপ্লিট ও ব্যালেন্সড ডায়েট, যা বিড়ালের ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সুস্থ রাখে।

দেশি বিড়ালের বয়স অনুযায়ী দৈনিক খাবারের চার্ট

একটি দেশি বিড়ালের বাচ্চার খাবারের পরিমাণ এবং পূর্ণাঙ্গ বিড়ালের খাবারের পরিমাপ কখনো এক হয় না। নিচে একনজরে দেখে নিন বয়স ও ওজন অনুযায়ী আপনার বিড়ালকে প্রতিদিন কতটা খাবার দেওয়া উচিত:

বয়স ও ওজন ভিত্তিক ক্যাট ফুড পরিমাপ টেবিল

বিড়ালের বয়সবিড়ালের ওজন (আনুমানিক)দৈনিক খাবারের ধরণদৈনিক মোট খাবারের পরিমাণ (গ্রাম)দৈনিক কতবার দেবেন
২ – ৪ মাস (Kitten)৫০০ গ্রাম – ১ কেজিকিটেন ড্রাই ফুড (পানিতে ভিজিয়ে) + নরম মাংস৩০ – ৪৫ গ্রাম৪ থেকে ৫ বার
৫ – ১২ মাস (Junior)১.৫ কেজি – ২.৫ কেজিকিটেন ফুড + সপ্তাহে ২ দিন ক্যান বা ওয়েট ফুড৫০ – ৭০ গ্রাম৩ থেকে ৪ বার
১ বছর+ (Adult)৩ কেজি – ৫ কেজিঅ্যাডাল্ট ক্যাট ফুড + হোমমেড সেদ্ধ চিকেন৭০ – ৯০ গ্রাম২ থেকে ৩ বার

দেশি বিড়ালকে মোটা করার সহজ উপায় ও খাবার

অনেকেই চান তাদের ঘরের দেশি বিড়ালটি যেন একটু গোলগাল, স্বাস্থ্যবান ও তুলতুলে হোক। তবে মনে রাখবেন, বিড়ালকে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাইয়ে অলস বা অসুস্থ বানানো আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য হলো তাকে সুস্থভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করা। আপনার দেশি বিড়াল যদি অতিরিক্ত রোগা বা চিকন হয়, তবে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

দেশি বিড়াল চিকন বা রোগা হয়ে যাওয়ার প্রধান ৩টি কারণ:

১. পেটে কৃমির আক্রমণ (Worms): এটি বাংলাদেশে দেশি বিড়াল শুকিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। বিড়ালের পেটে কৃমি থাকলে সে যাই খাক না কেন, পুষ্টির সিংহভাগ কৃমি শুষে নেয়।

২. অপুষ্টি ও কম প্রোটিন: শুধুমাত্র ভাত বা বাজারের সস্তা, মানহীন লুজ ক্যাট ফুড খাওয়ালে বিড়ালের শরীরে মাংসপেশি তৈরি হয় না।

৩. হজমশক্তির দুর্বলতা: অনেক সময় পেটের সমস্যার কারণে বিড়াল যা খায়, তা শরীরে ঠিকমতো শোষণ বা হজম হতে পারে না।

ওজন বাড়াতে এবং মুখের রুচি ফেরাতে কার্যকরী কিছু পুষ্টিকর খাবার:

উচ্চ প্রোটিনযুক্ত কিটেন ফুড (Kitten Food): আপনার দেশি বিড়ালের বয়স ১ বছরের বেশি (Adult) হলেও, তাকে সাধারণ খাবারের পাশাপাশি কিছুটা কিটেন ড্রাই ফুড (যেমন: Taipet Kitten Food) খেতে দিন। কিটেন ফুডে প্রোটিন এবং ফ্যাট সাধারণ খাবারের চেয়ে বেশি থাকে, যা দ্রুত সুস্থ ওজন বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

মুরগির কলিজা সেদ্ধ (Chicken Liver): সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১ বা ২ দিন সামান্য মুরগির কলিজা সেদ্ধ করে চটকে খাবারের সাথে মিশিয়ে দিন। কলিজায় প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন থাকে যা বিড়ালের মুখের রুচি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি প্রতিদিন দেওয়া যাবে না।

মাছের তেল বা ওমেগা সাপ্লিমেন্ট: বিড়ালের খাবারে ১ চামচ স্যালমন অয়েল বা ভালো মানের ক্যাট মাল্টিভিটামিন মিশিয়ে দিলে তাদের খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এবং শরীর দ্রুত পুষ্টি গ্রহণ করে।

ডিওয়ার্মিং বা কৃমির ওষুধের ভূমিকা:

বিড়ালের বয়স ২ মাস পার হলেই তাকে নিয়ম অনুযায়ী একজন ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শে কৃমির ওষুধ (Deworming) খাওয়াতে হবে। প্রতি ৩ মাস পর পর কৃমির কোর্স করালে বিড়ালের হজমশক্তি ঠিক থাকে এবং অল্প দিনেই বিড়াল পুষ্টি পেয়ে গোলগাল হয়ে ওঠে।

দেশি বিড়ালকে যে খাবারগুলো ভুলেও খাওয়ানো যাবে না

দেশি বিড়ালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি হলেও আমাদের ঘরের রান্নাকরা অনেক সাধারণ খাবার তাদের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত হতে পারে। না জেনে এই খাবারগুলো খাওয়ালে বিড়ালের লিভার ও কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে।

দুধ ভাত (Cow’s Milk): আমাদের দেশে একটি চিরন্তন ভুল ধারণা আছে যে বিড়ালকে দুধ ভাত খাওয়াতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অধিকাংশ বিড়ালই ‘Lactose Intolerant’.  অর্থাৎ গরুর দুধে থাকা ল্যাকটোজ চিনি ভাঙার ক্ষমতা বিড়ালের পাকস্থলীর নেই। ফলস্বরূপ, দুধ ভাত খাওয়ালে দেশি বিড়ালের মারাত্মক ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বমি হতে পারে।

পেঁয়াজ, রসুন ও অতিরিক্ত লবণ: আমাদের তরকারিতে থাকা পেঁয়াজ ও রসুন বিড়ালের লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) ধ্বংস করে দেয়। এতে বিড়াল অ্যানিমিয়া বা মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় ভুগতে পারে। অতিরিক্ত লবণাক্ত বা ঝাল খাবার বিড়ালের লিভারের ক্ষতি করে।

কাঁচা মাছ বা মাংস: কাঁচা মাছে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন: Salmonella) থাকে যা বিড়ালের পেটে ইনফেকশন ঘটায়। এছাড়া কাঁচা মাছে এমন কিছু এনজাইম থাকে যা বিড়ালের শরীরের জরুরি ভিটামিন ‘থায়ামিন’ ধ্বংস করে দেয়। তাই যেকোনো মাছ বা মাংস সর্বদা ভালো করে সেদ্ধ করে দিন।

চকলেট ও ক্যাফেইন: চকলেটে থাকা থিওব্রোমিন উপাদানটি বিড়ালের হৃদপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। এটি খেলে বিড়ালের হার্ট অ্যাটাক বা খিঁচুনি হতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. দেশি বিড়ালকে দিনে কতবার খাবার দেওয়া উচিত?

উত্তর: বিড়ালের বয়সের ওপর এটি নির্ভর করে। ২ থেকে ৫ মাসের বাচ্চার (Kitten) পেট ছোট থাকে কিন্তু পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে, তাই তাদের দিনে ৪ থেকে ৫ বার অল্প অল্প করে খাবার দেওয়া উচিত। বিড়ালের বয়স ১ বছর বা তার বেশি হয়ে গেলে দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবার দেওয়াই যথেষ্ট।

২. আমার দেশি বিড়াল পানি খেতে চায় না, কীভাবে তার শরীরের পানির অভাব দূর করব?

উত্তর: বিড়ালরা প্রাকৃতিকভাবেই বাটির জমা পানি সহজে খেতে চায় না। এর সমাধান হিসেবে আপনি তাদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় ড্রাই ফুডের পাশাপাশি অন্তত একটি অংশ ওয়েট ফুড বা ক্যান ফুড রাখুন। এছাড়া ঘরে তৈরি তেল নুন ছাড়া হালকা গরম মুরগির মাংসের সুপ বা ঝোল বানিয়ে দিলে তারা খুব পছন্দ করে চাটে, যা তাদের শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে।

৩. দেশি বিড়ালকে কি রাস্তার ইঁদুর টিকটিকি বা পোকামাকড় খাওয়া থেকে বিরত রাখা উচিত?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই বিরত রাখা উচিত। রাস্তার ইঁদুর বা টিকটিকির শরীরে বিভিন্ন মারাত্মক পরজীবী, ব্যাকটেরিয়া এবং বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে। এগুলো খেলে আপনার পোষা বিড়ালটি গুরুতর ইনফেকশন বা ফুড পয়জনিং এ আক্রান্ত হতে পারে। তাই ঘরের ভেতরেই তাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখুন।

শেষ কথা

আপনার ঘরের মিষ্টি দেশি বিড়ালটির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনি তাকে রোজ কী ধরণের খাবার দিচ্ছেন তার ওপর। শুধু ঘরের বাসি মাছ ভাত না দিয়ে, তার প্রাকৃতিকভাবে মাংসাশী শরীরের চাহিদাকে প্রাধান্য দিন।

ঘরে তৈরি সেদ্ধ প্রোটিনের পাশাপাশি ভালো মানের বাজেট ফ্রেন্ডলি ক্যাট ফুড বেছে নিয়ে একটি চমৎকার ডায়েট চার্ট তৈরি করুন। আপনার একটু সঠিক যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার আপনার প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে রাখবে আজীবন চঞ্চল, রোগমুক্ত এবং হাসিখুশি।

You might be interested in …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট করুন